ফাসি নিয়ে অবাক করা কিছু তথ্য!

 অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয়   সেটাই স্বাভাবিক।  শাস্তি বিভিন্ন রকমের হতে পারে৷ যেমন অর্থদণ্ড, জেল, ফাঁসি ইত্যাদি৷  তবে আর সব শাস্তির তুলনায় ফাঁসি একটু বেশি আলাদা৷  কারণ আমাদের ভারতবর্ষের ফাঁসি হচ্ছে সর্বোচ্চ সাজা৷ 




 একজন মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামির মৃত্যু  বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ভাবে সম্পন্ন করা হয়৷  কোন কোন দেশে কংকর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলা হয়৷ কোন দেশের সাজা  প্রাপ্ত আসামীকে সাইন্টিফিক টেস্টের জন্য ব্যবহার করা হয়৷  অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাদের মৃত্যু ঘটে৷ 





তবে আমাদের ভারতবর্ষের দেশগুলোতে মৃত্যুদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ফাসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ 


ফাসি কিভাবে কার্যকর হয় সে সম্পর্কে কম-বেশি আমাদের সকলেরই ধারণা রয়েছে৷  তবে তারপরও কিছু জিনিস আমাদের অজানাই থেকে যায়৷  যেমন ফাঁসির পূর্বে আসামির কানে কানে জল্লাদ কি বলে?

ফাঁসির দড়ি কি দিয়ে তৈরি হয়? বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে  নারীদের ফাসি  কার্যকর হয় না কেন?  ফাঁসির রায় দেওয়ার পর বিচারক কেন কলম ভেঙে ফেলেন ইত্যাদি! 




তাহলে চলুন শুরুতেই জেনে নেওয়া যাক ফাঁসির রায় শোনার পর বিচারক কেন কলম ভেঙে ফেলেন৷ 


আপনি বিভিন্ন হলিউড এর মুভিতে দেখে থাকবেন ফাঁসির রায় দেওয়ার পর বিচারক তার কলমটি ভেঙে ফেলেন৷ বাস্তবে কিন্তু এমনটা ঘটে । এর পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে৷ এবং কারণটি হচ্ছে ফাঁসির রায় একবার দিয়ে দিলে সে রায় পরিবর্তন করার ক্ষমতা স্বয়ং বিচারপতির ও  নেই। পরবর্তীতে যদি আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হয় তবুও ফাঁসির আদেশ বহাল থাকে। 




তবে বাংলাদেশে কিন্তু এমনটা ঘটে না৷ কেন জানেন? কারণ মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ইচ্ছে করলে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রাণ ভিক্ষা চাইতে পারে৷ রাষ্ট্রপতি যদি সাজাপ্রাপ্ত আসামির প্রাণ ভিক্ষা দেন তাহলে সেই ক্ষেত্রে আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় না।  সুতরাং আমাদের দেশে ফাঁসির রায়ের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যায় জন্য কলম ভেঙে ফেলা হয় না৷ তবে যদি স্বয়ং রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত ফাঁসির রায় বহাল রাখেন তাহলে সেই ক্ষেত্রে সাজাপ্রাপ্ত আসামির বাঁচার কোন উপায় থাকেনা৷ 



জানতে চাওয়া হয় একজন আসামির ফাঁসি কার্যকরের পর কেমন অনুভব হয় একজন বিচারপতির ? 


উত্তরে অনেকে জানান , খুব ভালো লাগে। একজন গুরুতর অপরাধী তার শাস্তি পৃথিবীর বুকে পাচ্ছে,তার জন্যে হয়তো একজন বা অনেক মানুষের জীবন নষ্ট হয়েছ৷এজন্য তো এই ফাসি শাস্তি হিসেবে তার জন্য কিছুই নয়। 


আবার অনেকে জানিয়েছেন, প্রথমদিকে একটু অনুশোচনা হয়৷ তবে আইন সবার জন্য সমান৷ নিজের মনকে বোঝানোর চেষ্টা করি যে সে তো একজন গুরুতর আসামী৷ তার জন্য এই শাস্তিই উপযুক্ত৷ 


অনেক বিচারপতি নাকি কিছুদিন মানুসিক চাপও অনুভব করেছেন বলে জানা যায়৷ 



তাহলে এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক ফাঁসি কার্যকরের পূর্বে জল্লাদ আসামির কানে কি বলে ?



শুরুতেই আপনাদেরকে জানিয়ে রাখি ফাঁসি কার্যকরকারী জল্লাদেরাও কিন্তু একসময় বড় বড় আসামি ছিলেন৷  তারাও হয়তো মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন৷ কিন্তু পরবর্তীতে তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল ছিল না৷  অথবা কার্যকর হয়ে ওঠেনি৷ 


যাহোক! ফাঁসির পূর্বে জল্লাদ আসামির কানে কানে বলে," আমাকে মাফ করে দিও! আমার কোন দোষ নেই৷ আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে হয়তো আমি তোমাকে নতুন জীবন দান করতে পারতাম৷ তবে আফসোস আমার সেই ক্ষমতা নেই৷ সুতরাং আমাকে মাফ করে দিও!"


অতঃপর ফাঁসির আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়৷ জীবনের অন্তিম কিছু সেকেন্ডে একজন ফাঁসির আসামি খুব ছটফট করে৷ ফাঁসির পূর্বে  তার শেষ ইচ্ছা কার্যকর করা হয়৷  তাকে বলা হয় আপনি শেষবারের মত কোন খাবারটি খেতে চান? অনেক ফাসির আসামী বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত খাবারের নাম বলেছিলেন৷ 


 ফাঁসি কার্যকরের পূর্বে  এই ধরণের অদ্ভুত খাবার খাওয়ার মনোবাসনা নিয়ে একটি ভিডিও পরবর্তীতে আপনাদের সামনে হাজির করা হবে৷ 



তাহলে এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক ফাঁসির দড়ি কি দিয়ে তৈরি হয়?


মূলত ফাঁসির দড়ি একটি সাধারন দড়ি৷ তবে মূলত  এই দড়িটিকে বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করা হয়৷ 


প্রথমত এই দড়িটিকে এক ধরনের বিশেষ সুতো দ্বারা আবৃত করা হয়৷  এবং অতঃপর তার উপর মোম ঘষা হয় এর ফলে দড়িটি মলায়ম করা হয়৷ 


ফাঁসি কার্যকরের সময় জল্লাদ, চিকিৎসক সহ আরো অনেকেই উপস্থিত থাকেন। 


এবার একটু অন্যরকম টপিক নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হতে চলেছি৷ 


বলতে পারবেন বাংলাদেশ কখনো নারীদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি কেন?


১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে৷  তার মধ্যে সবগুলোই ছিল পুরুষ আসামী৷ তবে নারী আসামির ফাঁসির রায় দেওয়া হলেও তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি৷ 


২০১৭ সালের সর্বশেষ তথ্য মতে বাংলাদেশের ৪৭ বছরে প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে৷  সর্বশেষ ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি আবদুল মাজেদকে ফাঁসির দণ্ডের দন্ডিত করা হয়।  এবং তার ফাঁসি কার্যকর হয়৷ 


সর্বশেষ মিন্নির ফাঁসির রায় দেওয়া হলে একটি ব্যাপার সকলের সামনে চলে আসে৷  এবং সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ নারী আসামিদের কেন ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীরা কনডেম সেলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, অনেকের ফাঁসি এখনো কার্যকরী হয়নি   এ ছাড়াও অনেকে প্রাণভিক্ষা নিয়ে বেঁচে গেছেন৷ 


উল্লেখ্য এই যে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় দেড়শ নারীর ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে। 


২০১৭ কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্বোধন করা হয়৷ তবে অন্য সকল জেলে ফাঁসির মঞ্চ থাকলেও এই মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার টিতে কোন ফাঁসির মঞ্চ নেই৷ 


তবে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অথিতির কাছ থেকে যখন জানতে চাওয়া হয়, কেন এখানে  কোনো  ফাসির মঞ্চ  নেই? উত্তরে তিনি জানান স্বাধীনতার ৪৭ বছরে এখন পর্যন্ত মহিলা আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি৷ এ  জন্য কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে কোন ফাসির মঞ্চো রাখা  হয়নি৷ 


কেন এখনো পর্যন্ত কোনো মহিলার ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি সেই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই৷ এছাড়াও বাংলাদেশের বিচার বিভাগ এই সম্পর্কে কোন কিছু জানায়নি। 



আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, একটা মানুষ যখন জানে যে তার জীবনের মাত্র কয়েকটা সেকেন্ড বাকি৷  এরপর তার ফাঁসি কার্যকর হয়ে যাবে অতঃপর তারা লাশ তুলে দেওয়া হবে তার পরিবারের হাতে, তার দাফন হয়ে যাবে এবং তারপর সে চলে যাবে অন্য এক দুনিয়ায় না ফেরার দেশে। তখন একজন ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামির মানুষিক অবস্থা কেমন হতে পারে? 


সাইকোলজিস্টদের মতে একজন ফাঁসির আসামি চিন্তা করতে থাকে হয়তো কোন দৈব শক্তি তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাবে৷ 




 তার পেছনের হাত দড়ি দিয়ে বাঁধা থাকে৷  এরপর কালো কাপড় দিয়ে জরিয়ে দেওয়া হয় তার চোখ-মুখ৷  অতঃপর কেবল একটি মাত্র একটি রুমালের ওপর নির্ভর করছে তার জীবন মরণ৷ 


এমন অবস্থায় কেবলমাত্র একটি জিনিসই তার মাথার মধ্যে চলতে থাকে৷  আমি তো মরে যাবো৷ ইশ! যদি এমন হতো, কোন দৈব শক্তি আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যেত৷ আমি একটা নতুন জীবন পেতাম৷ সে জীবন টাকে আমি আবার নতুনভাবে শুরু করতাম৷ নতুন ও উদ্দীপনা উৎসাহ নিয়ে৷ 


 কি পেলাম অপরাধ করে? পৃথিবীতে সবকিছুই তো তুচ্ছ৷  যদি পরকালের জন্য কিছু গোছাতে পারতাম৷  আরো অনেক চিন্তা ভাবনাই তার মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে৷ 



অতঃপর রুমাল মাটিতে পড়ে যায় এবং আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়ে যায়। 


প্রিয় ভিউয়ার্স ফাঁসির আসামি প্রাপ্ত একজন মানুষের জীবন থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার রয়েছে৷  প্রথমত পৃথিবীর বুকে দুর্নীতি এবং অপরাধ করলে তার শাস্তি আপনাকে পেতেই হবে৷  সুতরাং এই পৃথিবীটাকে সুন্দরভাবে সাজাতে শিখুন৷ সকল মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হবে৷  তবে সেই মৃত্যুটি হতে হবে স্বাভাবিক ভাবে।  আমরা কেউই ফাঁসির আসামি হয়ে মৃত্যুবরণ করতে চাইনা। 


আমরা চাই,অনন্তের পথে যাত্রাকালে সকল মানুষ যেনো তার পরিবারের সদস্যদের কাছে পায়৷ 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্য