বাংলাদেশের গৌরবমাখা পাবজি চ্যাম্পিয়নশীপ !

 


 

ছেলে আমার গোল্লায় গেছে । অংকের খাতায় ঘোড়ার ডিম পেয়েছ।  রীতিমতো বখাটে হয়ে গেছে।  এক অদ্ভুত  নেশায় মেতে আছে সে। সে নেশার নাম পাবজি ।পাবজি খেলতে গিয়ে সরল অংকের জটিল সমাধানের মত বাবাকে রীতিমতো পথে বসিয়ে ছেড়েছে পাঞ্জাবের এক কিশোর।  চিকিৎসার ১৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ফেলেছে বাবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ।শুধু তাই নয় এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটে চলেছে ভারত-বাংলাদেশ, পাকিস্তানে মত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ।এবং সে কারণে একপর্যায়ে অভিভাবকেরা এক হন।  এবং দাবি ওঠে পাবজি গেম বন্ধের ।সে কারণে অবশ্য পাবজি সহ বেশকিছু সমগোত্রীয় গেম বন্ধ করতে তৎপর হয়ে পড়ে ভারত সরকার। শুধু ভারত সরকার নয় হিংস্রতা এবং ভয়াবহতা কিশোরদের মনে অন্যরকমের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সে ব্যাপারে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে সমগ্র বিশ্বের বিশেষজ্ঞদের চালাও হ্যালো অথচ এমন বিতরকের মাঝেও চলছে পাবজি ওয়ার্ল্ড কাপ যেখানে প্রযুক্তির হর্তাকর্তা পাশ্চাত্য দেশগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ যে দেশে কিনা ইন্টারনেট স্পিড নিয়ে রয়েছে হাজার টাকা জরিমানা এবং অভিযোগ

 

প্রবীণরা যেখানে আঁকড়ে ধরে রয়েছে পুরনো স্মৃতিকে সেখানে নবীনরা চাইছে নতুন কিছু দিয়ে বিশ্ব জয় করতে ।এবং সে  কারণে এক মোবাইল গেমের নেশা পরিণত হয় বিশ্ব জয়ের নেশায় ।সম্প্রতি সময় বাংলাদেশের কয়েকজন তরুন দ্বারা নির্মিত এ ওয়ান স্পোর্টস ১৯৫২ নিশ্চিত করেছে পাবজি  বিশ্বকাপ খ্যাত পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপ 2020  পুরো বিশ্বের ১ লাখ , ১০ হাজার দলকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ উঠে এসেছে শীর্ষে। 






এখন শুধু অপেক্ষা বিজয়ীদের খেতাব নিজের করে নেওয়ার। নিজেদের দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ পূর্বে ।

 

অতঃপর তারা পৃথিবীর ১৬ টি দলের মধ্যে অবস্থান ধরে রাখে এ ওয়ান স্পোর্টস নামের এই  গেমার টিম। 

টিম সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে মরুর দেশ দুবাইয়ে আগামী ২১ থেকে ২৫ শে জানুয়ারি  শুরু হতে চলেছে গ্র্যান্ড ফাইনাল রাউন্ড। এবং সে রাউনড এ বিজয়ী হতে পারলে বিজয়ের পতাকা উড়াবে বাংলাদেশের দামাল ছেলে শাকিল, রাফিদ, আলাউদ্দিন, সৈকত, অভি ।দলটির প্রতিষ্ঠাতা পাবজি মাস্টারমাইন্ড কাজী আরাফাত হোসেন ।এছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে সাইবার 71 নামের বাংলাদেশের অন্যতম সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি। 

 


ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া পাবজি চাম্পিয়নশিপ 2020 এর প্রথম রাউন্ড ছিল পাবজি মোবাইল ক্লাব ওপেন। যেখানে খুব সহজেই তাদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয় এ ওয়ান স্পোর্টস। দ্বিতীয় রাউন্ড ছিল পাবজি মোবাইল প্রো লীগ। এবং তৃতীয় রাউন্ড ছিল তারচেয়ে চাম্পিয়নশিপ ২০২০ এর বাছাইপর্ব। সেই পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল বাংলাদেশ দলের অবস্থান ছিল ১৭ তম ।তবে কেবল মাত্র ১৬ টি দল  গ্রুপ পর্বে স্থান অর্জন করবে। তাহলে কিভাবে বাংলাদেশ শীর্ষ দলের মধ্যে জায়গা করে নিতে সক্ষম হল ?

 

 আসলে ঠিক এই জায়গাটা এটি ইন্টারেস্টিং ঘটনা রয়েছে ।পাজবি চ্যাম্পিয়নশিপের শীর্ষ যে ১৬ টি দল রয়েছে তার মধ্যে একটি ছিল  Loops Esports

 চায়নার এ দলটি মূলত তাদের ভেতরকার দন্ড বিবাদকে সংবরণ করতে না পেরে এক পর্যায়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখোমুখি হয়। যেটি ছিল পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপের নিয়মবহির্ভূত। ব্যাপারটি  কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পরপরই তাদেরকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেয়া হয়। যখন চীনের একমাত্র নির্বাচিত এই দলটি নিয়ে  আশায় বুক বেধে ছিল চাইনিজ গেমিং কমিউনিটি সেই সময়টাতে হুট করে এমন অবস্থা সত্যি দুঃখজনক ।তবে দলের মধ্যে সম্প্রতি এবং সহযোগিতা না থাকলে যা হয় আরকি ! ডিসকোয়ালিফাই এক ঘণ্টার মধ্যে Loops Esports



তাদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম ওয়েবসাইট থেকে জানায় যে, তারা পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে ডিসকোয়ালিফাই হয়ে গিয়েছে। অতঃপর পাপজিও  তাদের গেমের র‍্যাংক লিস্টে এমন এক মেসেজ দেখায়। 

 

সুতরাং দিন শেষে লুপস ই স্পোর্টসের জন্য এক বালতি সমবেদনা।

 

 

 এবং 16 তম দল হিসেবে বেছে নেওয়া হয় বাংলাদেশের এ ওয়ান স্পোর্টস।  সুতরাং  Loops Esports এর

এমন কাহিল অবস্থা যেন বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়ায়

 

সম্প্রতি  নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার মাধ্যমে এ ওয়ান স্পোর্টস টিমের পাঁচজন সদস্য  শাকিল, রাফিদ, আলাউদ্দিন, সৈকত, অভি জিতে নিয়েছে ৬ লাখ টাকা ।

 

 প্রথমবারের মতো পাপজির চ্যাম্পিয়নশিপে গ্রুপ পর্বে উঠে আসার পরপরই সকলের কাছে পরিচিত হয় বাংলাদেশের এই গেমার টিমটি।  প্রথম প্রথম তরুণদের কাছে অতঃপর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তাদের গৌরব মন্ডিত কথা এবং তার পরপরই প্রবীনদেরকেও  উদ্বুদ্ধ করে। 

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই তো বলেছিলেন ,বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া দামাল ছেলেদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। আসলেই তাই !

 

 সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা দেশের জন্য এমন অর্জন বয়ে আনতে পারে তা সকলের কল্পনা অতীত। যেখানে ইন্টারনেট স্পিড নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সংকা   সেখানে পাবজি চ্যাম্পিয়নশিপের মত এত বড় আসরে বাংলাদেশের শীর্ষ তালিকায় স্থান করে নেওয়াটা সত্যি বিস্ময়কর ।যদি লক্ষ থাকে অটুট এবং মনে থাকে বিশ্বাস তাহলে  বিশ্ব জয় করাটা তো কেবল সময়ের অপেক্ষা ।যদি বাজে স্বভাব কেউ কোনো ভালো কাজে লাগিয়ে বিশ্ব জয় করা যায় তাহলে সেই বাজে স্বভাব খুব সহজেই সংবরণ করে নেওয়া যায়। 

 

যদি এই বাজে স্বভাব কে কাজে লাগিয়ে লাল-সবুজের পতাকাটি সারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা যায় তাহলে থাকুক না সে বাজে স্বভাব ।

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য