মোবাইল ফোন সুরক্ষিত রাখতে কি কি করতে হবে!

মোবাইল ফোন সুরক্ষিত রাখতে কি কি করতে হবে!

মোবাইল ফোন সুরক্ষিত রাখতে কি কি করতে হবে! 


আমাদের মধ্যে অধিকাংশ লোক ১০/১১ হাজার টাকা খরচ করে নতুন অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কিনে নেয়। কিন্তু যাদের বাজেট কম তারা অত টাকা খরচ করতে পারে না। যার ফলে কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে ফোন কেনার জন্য তাদের পুরাতন অর্থাৎ সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কিনতে হয়। আবার সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তবে যাইহোক, সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে দেখে শুনে না নিলে পরবর্তীতে আপনি কিন্তু ঠকতে পারেন। তাই আজকের পোস্টে সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার আগে কি কি দেখে নিবেন তা নিয়ে আলোচনা করব। আশাকরি পোস্টটি প্রথম হতে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।



১. ফোন হ্যাং করে কিনা দেখুন: 


সেকেন্ড হ্যান্ড কেনার আগে ফোনটি ভালো করে দেখে নিন হ্যাং করে কিনা। ফোনটি হ্যাং করে কিনা তা বুঝতে ফোনে গেমস খেলে দেখুন অথবা একটু ঘেটে দেখুন। এছাড়া নেট থেকে ফোনটির নাম ও মডেল লিখে সার্চ দিয়ে দেখুন এই ফোনের র‍্যাম ক্যাপাসিটি কত। সাধারণত, ফোনের র‍্যাম যত বেশি হয় ফোন হ্যাং করার সম্ভাবনা তত কম থাকে। ফোনের র‍্যাম ২ জিবির চেয়ে কম হলে সে ফোন না কেনাই ভালো। কেননা, এই ধরণের ফোনে পরবর্তীতে হ্যাং করার সম্ভাবনা বেশি। তাই, ২ জিবি র‍্যামের নিচে কোনো ফোন কিনবেন না। যদি কিনেন তাহলে ঠকবেন।



২. ব্যাটারি ব্যাক-আপ দেখে নিন:


যেকোনো ফোনের জন্যই ব্যাটারি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই, ফোনটি ঘেটে ব্যাটারির চার্জ কতক্ষণ টিকছে তা দেখে নিন। এছাড়া গুগলে সার্চ করে দেখে নিন এই ফোনের ব্যাটারি কত মিলি-অ্যাম্পায়ারের। আপনাদের প্রতি আমার পরামর্শ থাকবে ৩০০০ মিলি-অ্যাম্পায়ার (3000mAh) বা তার উপরের ব্যাটারি  ক্যাপাসিটির ফোন কিনুন। ব্যাটারি যদি ৩০০০ মিলি-অ্যাম্পায়ার (3000mAh) এর কম হয় তাহলে সে ফোন না কেনাই ভালো। কেননা, ৩০০০ মিলি-অ্যাম্পায়ার (3000mAh) এর নিচে কোনো ফোনের ব্যাটারি ভালো ব্যাক-আপ দিতে পারে না। টাকা দিয়ে ফোন কিনে যদি চার্জ তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায় তবে সেটা পরবর্তীতে আপনার জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।




৩. ক্যামেরা কোয়ালিটি দেখে নিন:


ফোনের ক্যামেরা কতটা ভালো তা আপনি ইন্টারনেটে দেখলে বুঝতে পারবেন না। এর জন্য আপনাকে ফোনটির ক্যামেরাতে গিয়ে দেখতে হবে এই ফোনের ক্যামেরা কোয়ালিটি আসলে কীরকম। তখন ফোনের ক্যামেরায় কোনো ক্রটি থাকলে তা বুঝতে পারবেন। যেমন আপনি ইন্টারনেটে দেখলেন যে একটি সিম্ফনি ফোনে ১৩ মেগা-পিক্সেলের। (13MP) ক্যামেরা রয়েছে।  কিন্ত স্যামসাং ফোনের বেলায় মাত্র ৫ মেগা-পিক্সেলের (5MP) ক্যামেরাও বেশ কোয়ালিটি সম্পন্ন। তাই ফোনের ক্যামেরার কোয়ালিটি কীরকম তা দেখার জন্য আপনাকে এই ফোনের ক্যামেরা একটু ঘেটে দেখতে হবে।



৪. ডিসপ্লে দেখে নিন:


ফোনের ডিসপ্লে দেখে নেওয়াটাও খুব জরুরি। ফোনের ডিসপ্লে ভাঙ্গা থাকলে আমার মতে সে ফোন না কেনাটাই ভালো। সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনার সময় ফোনের ডিসপ্লেতে ঠিকভাবে টাচ হচ্ছে কিনা তাও দেখে নিন।



৫. রিলিজ ডেট দেখে নিন:


যেকোনো জিনিসের সময় বাড়ার সাথে সাথে আয়ু কমে যায়। তেমনি পুরনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনেরও স্থায়িত্ব কমে যায়। এজন্য আপনাকে ফোনের রিলিজ ডেট দেখার জন্য একটু কষ্ট করে গুগলে গিয়ে ফোনটির নাম ও মডেল লিখে সার্চ দিতে হবে। যেমন ধরুন আপনি Symphony Z12 মডেলের একটি সেকেন্ড হ্যান্ড অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কিনতে চাচ্ছেন। তখন গুগলে Symphony Z12 price in Bangladesh লিখে সার্চ দিন। তখন আপনি এই ফোনের দাম হতে শুরু করে যাবতীয় সকল তথ্য পেয়ে যাবেন। ফোনটির ডিটেইলসে এই ফোনের রিলিজ ডেট দেখে নিন। যদি দেখতে পান এই ফোনের রিলিজ ডেট ২ বছরের পুরনো তাহলে সে ফোন কেনা বাদ দিয়ে দিন। কেননা, কোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ২ বছরের বেশি পুরনো হলে সেটির স্থায়িত্ব কমে যায়। 



আমার মতামত:-


সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন যদি ঠিকভাবে দেখে না কিনেন তাহলে পরবর্তীতে আপনার পুরো টাকাটাই জলে যাবে। তাই, উপরে বর্ণিত টিপস অনুযায়ী যাচাই-বাচাই করে ফোন কিনুন। 

ধন্যবাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য